গাইবান্ধায় স্কুলে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ

গাইবান্ধা ( জেলা ) প্রতিনিধি
গাইবান্ধা ( জেলা ) প্রতিনিধি
২৮ আগস্ট, ২০২৫ এ ৬:১০ এএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্কুলে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্কুলে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার অন্তত ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম চলে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি হয়েছে সেগুলো হলো— সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুপনী স্কুল, চন্ডিপুর ইউনিয়নের হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সর্বন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র স্কুল (কেজি), ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজরা হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং শান্তিরাম ইউনিয়নের খুদিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলেও পারেননি। মাঠ ও আঙিনাজুড়ে নেতাকর্মীদের ভিড়, মাইকের আওয়াজ এবং কর্মসূচির কারণে পুরো পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামদেব খবির উদ্দিন কলেজ নির্ধারিত স্থান থাকলেও তা পরিবর্তন করে কালীতলা বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করে ইউনিয়ন বিএনপি।

শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, শতশত নেতাকর্মী স্কুলে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা ভয়ে ক্লাসে যেতে পারেনি। রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বিদ্যালয়কে ব্যবহার করায় জেলা নেতাদের দুষছেন স্থানীয়রা।

এ প্রসঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজকুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করার নিয়ম নেই। বিষয়টি আমার জানা ছিল না, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) এইচ. এম. মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নেই। বিষয়টি যাচাই করে শিক্ষকদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিকের মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।