২০২৬ বিশ্বকাপ ‘দমনপীড়নের মঞ্চ’ হতে পারে, সতর্ক করল অ্যামনেস্টি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
৩১ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:২৯ এএম
২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজক দেশগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল । ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজক দেশগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল । ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ মানবাধিকার সংকটের কারণে ‘দমনপীড়নের মঞ্চ’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার প্রকাশিত ‘হিউম্যানিটি মাস্ট উইন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো এবং ফিফার প্রতি সমর্থক, খেলোয়াড় ও স্থানীয় জনগণের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থাটি দাবি করেছে, তিনটি আয়োজক দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ফিফার ‘নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করছে।

বিশ্বকাপের মোট ১০৪টি ম্যাচের প্রায় ৭৫ শতাংশ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যামনেস্টির মতে, দেশটিতে বর্তমানে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে গণ-বহিষ্কার, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং আধা-সামরিক ধাঁচের অভিবাসন অভিযান (আইসিই) নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এসব পদক্ষেপ বিশ্বকাপ চলাকালীন দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া, কিছু দেশের সমর্থকরা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান ও সেনেগালের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে ইউরোপের কিছু এলজিবিটিকিউ+ সমর্থক গোষ্ঠী ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ দেখতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ কবার্ন বলেন, “ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে বিপুল আয় করতে যাচ্ছে, তবে এর জন্য যেন সমর্থক, খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফুটবল শুধু সংস্থা বা স্পনসরদের জন্য নয়, বরং সংশ্লিষ্ট মানুষের অধিকারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার পূর্ববর্তী ধারণার তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টুর্নামেন্ট থেকে ফিফা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধন এবং ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয়োজক দেশ ও ফিফা কীভাবে এই উদ্বেগ মোকাবিলা করে, সেটিই এখন নজরে রয়েছে বিশ্ববাসীর।