টু-জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নতুন অর্থ প্রতারণা: সতর্ক থাকার উপায়


ভুয়া মোবাইল টাওয়ার ব্যবহার করে টু-জি নেটওয়ার্কে ফোন টেনে পাঠানো হচ্ছে নতুন ধরণের এসএমএস প্রতারণার কৌশল।
ফাইভ–জি নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকা ফোনে হঠাৎ ভুয়া টু-জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠানো এসএমএস প্রতারণা বেড়ে গেছে। প্রতারকরা ভয় বা লোভের বার্তা দিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যাংক তথ্য হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
আপনার ফোনে পূর্ণ সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও, হঠাৎ একটি এসএমএস বার্তা আসে—‘ব্যাংকের কেওয়াইসি আপডেট না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ’ বা ‘বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সংযোগ কেটে দেওয়া হবে’। বার্তাটি বিশ্বাসযোগ্য হওয়ায় অনেকে সজাগ হন না।
প্রতারকরা ‘এসএমএস ব্লাস্টার’ বা ‘আইএমএসআই ক্যাচার’ ব্যবহার করে। ছোট এই যন্ত্র নিজেকে আসল মোবাইল টাওয়ার হিসেবে পরিচয় দেয় এবং শক্তিশালী সিগন্যাল ছড়িয়ে ফোনগুলোকে নিজের নেটওয়ার্কে টেনে নেয়। ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, কখন তার ফোন ফাইভ–জি বা ফোর–জি থেকে টু–জি নেটওয়ার্কে নেমে গেছে।
টু-জি নেটওয়ার্কে সুরক্ষা কম থাকার কারণে প্রতারকরা সহজে প্রেরকের পরিচয় জাল করতে পারে। ফলে ‘এসবিআই-এসইসি’, ‘এইচডিএফসি-ব্যাংক’, ‘ইনকাম-ট্যাক্স’ নামের মেসেজ একেবারে অফিসিয়াল মনে হয়। বার্তায় সাধারণত কেওয়াইসি সতর্কতা, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি, কুরিয়ার বা রিওয়ার্ড নোটিশ, পার্ট-টাইম আয় ইত্যাদি প্রলোভন দেওয়া হয়।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভারতীয় বিভিন্ন শহরে এই ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। শুধু ২০২৫ সালে টেলিকম–সম্পর্কিত সাইবার প্রতারণা প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লোকেরা ৩০ হাজার কোটি রুপির বেশি ক্ষতি ভোগ করেছে।
নিরাপদ থাকার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—টু-জি কানেক্টিভিটি বন্ধ রাখা, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, ব্যাংক বা সরকারি কাজে কেবল অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করা, এবং হঠাৎ ফাইভ–জি থেকে টু–জি নেটওয়ার্কে নামলে সতর্ক থাকা। সামান্য সচেতনতা বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি








