উবারকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জুরি উবারকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। যাত্রী যৌন সহিংসতার মামলাটি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
এক যাত্রীর করা মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি উবারকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় ভবিষ্যতে উবারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হাজারো মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেইলিন ডিন নামের এক নারী ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে উবারে যাত্রাকালে ড্রাইভারের দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার হন। ঘটনার পর ২০২৩ সালে তিনি উবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ডিনের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, উবার যাত্রীদের ‘নিরাপদ ভ্রমণ’-এর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় প্রতিষ্ঠানটির ওপরই বর্তায়।
অ্যারিজোনার একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জুরি রায় দেয়, অভিযুক্ত চালক ঘটনাকালে উবারের পক্ষ থেকে কাজ করছিলেন। ফলে আইনগতভাবে তাকে উবারের প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সেই সূত্রে কোম্পানিকেই ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়।
জুরি উবারের বিরুদ্ধে সরাসরি অবহেলার অভিযোগ গ্রহণ না করলেও, ডিনকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়নি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটির বিষয়টিও স্বীকার করা হয়নি।
ডিনের আইনজীবী র্যাচেল অ্যাব্রামস বলেন, “এই রায় কেবল শুরু। এটি ভবিষ্যতের মামলাগুলোর জন্য একটি শক্ত বার্তা। মামলাটি ছিল পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। বর্তমানে একই ধরনের প্রায় তিন হাজার মামলা ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কৌশল নির্ধারিত হবে।”
উবারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৮ সালের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, চার বছরে অন্তত ১০৩ জন উবার চালকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালে উবারের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মোট ৫,৯৮১টি যৌন সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে ২০২১ ও ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী ওই সময়ে ২,৭১৭টি যৌন নিপীড়ন বা অসদাচরণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে উবার দাবি করে, তাদের ৯৯.৯ শতাংশের বেশি যাত্রা কোনো ধরনের নিরাপত্তা সমস্যাবিহীনভাবে সম্পন্ন হয়।
কোম্পানিটি জানায়, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে তারা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে—লাইভ লোকেশন শেয়ার, নিয়মিত চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, যাত্রাকালে অডিও রেকর্ডিং এবং নারী যাত্রীদের জন্য নারী চালক বেছে নেওয়ার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবুও সমালোচকরা বলছেন, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। উবার জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, “জুরি যেহেতু অবহেলার অভিযোগ গ্রহণ করেনি, সেটিকে আমরা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।”
ফেডারেল মামলাগুলোর পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের আদালতেও প্রায় ৫০০টি আলাদা মামলা চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে উবারকে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে।
ডিনের আরেক আইনজীবী বলেন, “এই আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। অসংখ্য ভুক্তভোগী এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।”









