দুর্নীতির অভিযোগকে বললেন ‘গুঞ্জন’

সম্পদের হিসাব প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
৫ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:৩৬ এএম
সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের বিবরণ তুলে ধরছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবিঃ সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের বিবরণ তুলে ধরছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র Asif Mahmud Sajib Bhuiyan নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। উপদেষ্টা থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা দেখাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা রয়েছে। তবে বাবার ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন রয়েছে, যার কিস্তি প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। এখনো ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা বাকি আছে। সে হিসাবে ব্যাংকে থাকা অর্থ সমন্বয় করলে প্রায় ৮২ হাজার ৪৫ টাকা দেনা থাকে। তার মায়ের হিসাবে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর হিসাবে রয়েছে ৬১৩ টাকা।

নিজের ব্যক্তিগত হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, সোনালী ব্যাংকের সেভিংস হিসাবে বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা রয়েছে। উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে তার বেতন-ভাতা স্যালারি হিসাবে জমা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি সরকারিভাবে পাঁচটি বিদেশ সফরে গেছি। সেসব সফরের টিএ-ডিএ এবং অন্যান্য সরকারি ভাতা আমার স্যালারি হিসাবে এসেছে।” সরকারে যোগ দেওয়ার আগে সেখানে ৫০ হাজার টাকা ছিল। সব মিলিয়ে হিসাবে জমা হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে ওই হিসাবে রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।

তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে Bangladesh Financial Intelligence Unit (বিএফআইইউ)। গত সোমবার (২ মার্চ) দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পরই তিনি প্রকাশ্যে হিসাব তুলে ধরেন।

অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যারা অতীতে মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের যারা এখনো দেশে রয়েছেন, তারাই এসব অভিযোগ তুলছেন।” তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় এমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তবে তার সম্ভাব্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের আলোচনা শুরু হওয়ার পরই গুঞ্জন ছড়ানো হয়। তার ভাষ্য, “ব্যাংক হিসাব তলব করে রহস্য তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল। তাই আমি নিজেই সব পরিষ্কার করে দিলাম।”

বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত সংস্থার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের আর্থিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক বিতর্কের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। সামনে এ ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।