সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির প্রার্থী কে হচ্ছেন? আলোচনায় দুই নেত্রী


সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় এনসিপির দুই নেত্রী। ছবিঃ সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন। কে মনোনয়ন পাবেন, কখন নির্বাচন হবে এবং কীভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে—এসব প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রার্থী পাঠাতে পারবে তারা। দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় রয়েছেন দুই নেত্রী।
দলের মিডিয়া সমন্বয়ক মাহবুব আলম জানান, এই পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু)। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। তিনি বলেন, “দলীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। সময় হাতে রয়েছে।”
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে মনোনয়ন দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার পর্যাপ্ত সুযোগ এখনো আছে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলবে।
সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনসংখ্যার অনুপাতে নির্ধারিত হয়। ফলে ছোট দলগুলোর জন্য এ আসন রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। এনসিপির ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দলটি এই আসনের মাধ্যমে সংসদে নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায়।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রজ্ঞাপন জারির পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া। এনসিপির পক্ষ থেকেও তখন চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন নজর মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম—শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন দলের আস্থা, সেটিই দেখার বিষয়।









