রুমিন ফারহানার হলফনামায় সম্পদ ও আয়ের পূর্ণ বিবরণ


মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত
সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তার সম্পদ, আয়, পেশা ও মামলার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে দাখিল করা এই হলফনামা থেকে তার আর্থিক অবস্থান ও নির্বাচনি ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
কে—ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। কী—তার দাখিল করা হলফনামার তথ্য প্রকাশ। কখন—মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়। কোথায়—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে নির্বাচন উপলক্ষে। কেন—নির্বাচনি আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী। কীভাবে—ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে। এভাবেই প্রকাশ্যে আসে তার সম্পদ ও আয়ের বিবরণ।
হলফনামা অনুযায়ী, রুমিন ফারহানার নামে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে অবস্থিত একটি সম্পত্তি তিনি মায়ের কাছ থেকে হেবানামা হিসেবে পেয়েছেন, যার মূল্য অজানা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় আরও দেখা যায়, ঢাকার লালমাটিয়ায় অবস্থিত পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট তিনি বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন, যার জন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। পাশাপাশি পুরানা পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি স্পেসের মালিকানা রয়েছে তার, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।
নিজের পেশা হিসেবে রুমিন ফারহানা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তার নামে কোনো ব্যাংক জমা, বিদেশি মুদ্রা, শেয়ার, বন্ড বা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নেই। নিজের নামে কোনো গাড়ি বা যানবাহনও নেই। তবে তার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচনি ব্যয়ের বিষয়ে হলফনামায় বলা হয়েছে, নিজের আইন পেশা থেকে অর্জিত আয় থেকে ২০ লাখ টাকা নির্বাচনি খরচে ব্যয় করবেন তিনি। পাশাপাশি তার প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদী স্বেচ্ছায় নির্বাচনি প্রচারণার জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান দেবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে রুমিন ফারহানার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় তিনটি এবং ২০২৩ সালে একটি ফৌজদারি মামলা ছিল। তবে ২০২৫ সালে এসব চারটি মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও তিনি ২০১৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ৬৫ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ৮০ শতাংশ মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং ৫০ শতাংশ বেকারত্ব দূরীকরণে তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য, জোটগত রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দিয়েছে।









