মেথোট্রেক্সেটই ছিল খালেদা জিয়ার ‘স্লো পয়জন’—চাঞ্চল্যকর দাবি চিকিৎসকের

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৩৫ পিএম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী। ছবি সংগৃহীত

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী। ছবি সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ার ফলে খালেদা জিয়ার লিভারের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল কিনা—এমন প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে উঠছে। তার ভাষায়, “মেথোট্রেক্সেট নামের ওষুধটি তার ফ্যাটি লিভার সমস্যাকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং সেটিই ধীরে ধীরে লিভার সিরোসিসে রূপ নেয়। এই প্রেক্ষাপটে ওষুধটি তার জন্য ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে।”

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিক্যাল বোর্ড তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সরাসরি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেন যে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ এর আগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা ছাড়পত্র অনুযায়ী তাকে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ভর্তি থাকা অবস্থাতেও এই ওষুধ চালু রাখা হয়। বিষয়টি শনাক্ত করার পর তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওষুধটি বন্ধ করেন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার আগে থেকেই মেটাবোলিক অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এমএএফএলডি) ছিল। এমন অবস্থায় মেথোট্রেক্সেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসনোগ্রাম করা ছিল অত্যাবশ্যক। কিন্তু লিভার ফাংশনের ফল খারাপ আসার পরও সংশ্লিষ্ট সরকারি চিকিৎসকেরা আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করাননি এবং ওষুধ বন্ধ করেননি।

তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে খালেদা জিয়া আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে রাজি হননি বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক সিদ্দিকী। তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শয্যার পাশেই পয়েন্ট অব কেয়ার আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যেত এবং অন্তত মেথোট্রেক্সেট বন্ধ করাই ছিল ন্যূনতম কর্তব্য।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই অবহেলা খালেদা জিয়ার লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি ঘটিয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা এবং একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এটি কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ ছিল কিনা, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলার তিনটি দিক নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে।