মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র, তেল ও গ্যাসের দামে বড় উল্লম্ফন


হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে অস্থিরতা। ছবিঃ সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান QatarEnergy তাদের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও লাফিয়ে বাড়ে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড সোমবার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের বেশি ছুঁয়ে যায়। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীর কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার সতর্কবার্তাও দিয়েছে।
কাতার জানায়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে তাদের একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। একই সময়ে সৌদি আরবের উপকূলীয় রাস তানুরায় অবস্থিত Saudi Aramco-র প্রধান তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা আরও জোরদার হয়।
জ্বালানি দামের উল্লম্ফনের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে Dow Jones Industrial Average প্রায় ১ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করে। Nasdaq Composite ও S&P 500 সূচকও নিম্নমুখী ছিল। লন্ডনে এফটিএসই ১০০ সূচক ১ শতাংশ কমে যায়। ইউরোপে ফ্রান্সের সিএসি-৪০ ও জার্মানির ড্যাক্স সূচকেও বড় পতন দেখা গেছে। অনিশ্চয়তার বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৮৮ ডলারে পৌঁছায়।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে এবং আরেকটি জাহাজের নিকটে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে প্রাথমিক উল্লম্ফনের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭.৬ শতাংশ বেড়ে ৭২.২০ ডলারে দাঁড়ায়।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির প্রধান সাউল কেভোনিক বিবিসিকে বলেন, বাজারে আতঙ্ক ছড়ালেও এখনো তেল উৎপাদন ও পরিবহন অবকাঠামো বড় আকারে লক্ষ্যবস্তু হয়নি। তার মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরায় শুরু হলে দামের চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।









