পরিবেশ ও উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা বিএনপির, জানালেন তারেক রহমান


দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছে, যা সমাধানে নতুন করে খাল খননের কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকার পরিবেশ ও সবুজায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে এসে ঢাকার পরিবেশে বড় পরিবর্তন চোখে পড়েছে। আগের তুলনায় সবুজ কমে গেছে, শহর যেন শুকিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশব্যাপী পরিবেশবান্ধব বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
দেশের পরিবেশ, যোগাযোগ, শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি টেকসই ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের সমালোচনা রাজনীতির স্বাভাবিক চর্চা হলেও ভবিষ্যতে সংকট সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
ট্রাফিক সমস্যা প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। মেট্রোরেলের বিকল্প হিসেবে মনোরেল ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, বনানী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মনোরেলকে মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত করা গেলে রাজধানীর ট্রাফিক সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে পেশাদার ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি খেলায় ও একটি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।










