নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরকে শোকজ


পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনপূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনি অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশালে বিচারিক কমিটির সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ এ নোটিশ জারি করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে নির্ধারিত দিনে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট এনামুল হক কর্তৃক দশমিনা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এ শোকজ দেওয়া হয়। অভিযোগটি সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে বরিশালের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণাকালে নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে নিয়মিতভাবে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার পাগলা বাজার সেন্টার এলাকার চরবোরহান এলাকায় অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনি কার্যালয়ে নুরুল হক নুরের কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালান। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে, যা আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারা পরিপন্থি।
শোকজ নোটিশে জানানো হয়েছে, উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এজন্য তাকে আগামী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে কমিশন পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে। ফলে এই শোকজ নোটিশ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




