ঢাকায় প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনে জামায়াত নেতারা


ঢাকায় ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, কূটনৈতিক মিশন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার আয়োজন করে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও তাঁর সহধর্মিণী মানু ভার্মার আমন্ত্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে স্বাগত জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারতের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও উপস্থিতি:
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক এবং সিভিল সোসাইটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
হাইকমিশনারের বক্তব্য:
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস রচিত হয়েছে। সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলায় দুই দেশের অভিন্ন ভালোবাসা এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এবং জ্বালানি করিডোর গড়ে তুলতে পারে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরেছে। এতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শুভকামনার বার্তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।










