জামায়াতের সঙ্গে নতুন জোট? ২৬ ফেব্রুয়ারিতে সিদ্ধান্ত জানাবে এনসিপি


জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গে ২৬ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে আলোচনা করবে এনসিপি। ছবিঃ সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী সমঝোতার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক জোট গঠনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কে কার সঙ্গে জোটে যাচ্ছে, কখন সিদ্ধান্ত হবে এবং কীভাবে এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে—এসব প্রশ্নের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এনসিপি। দলটি জানিয়েছে, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির বিশেষ বৈঠকেই বিষয়টি আলোচনা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়নে এনসিপি ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৩০ জন প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠক করেছে। সেখানে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং পদত্যাগ করা নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২৬ ফেব্রুয়ারির বিশেষ বৈঠকে আমরা বসব, সেখানেই এ বিষয়ে আলোচনা হবে।” তিনি জানান, ওই বৈঠকে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে এবং আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।
মনিরা শারমিন আরও বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। সামনে কীভাবে এগোনো উচিত, সেটিই নির্ধারণ হবে বৈঠকে।” দলীয় সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবেই নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপির মিডিয়া সমন্বয়ক মাহবুব আলম বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে আমরা নির্বাচনী জোটে ছিলাম, তবে আদর্শিক জোট হওয়ার সুযোগ নেই।” তিনি যোগ করেন, কিছু অভিন্ন লক্ষ্য—যেমন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন—নিয়ে দুই দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে সেটি রাজনৈতিক জোটের সমার্থক নয়।
বর্তমানে এনসিপি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি খোলা আলোচনার মধ্যে রেখেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারির বিশেষ বৈঠকের পর দলটির অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই নজর এখন ওই বৈঠকের দিকেই।









