জনগণের অধিকার হরণ হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
১০ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:২৩ এএম
জনগণের অধিকার হরণ হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: ডা. শফিকুর রহমান । ছবি: সংগৃহীত

জনগণের অধিকার হরণ হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে: ডা. শফিকুর রহমান । ছবি: সংগৃহীত

সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার রাজধানীতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষার দাবিতে সংসদের ভেতরে-বাইরে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকারের পক্ষে তারা কথা বলবেন। সরকার যদি সেই দাবিগুলো মেনে নেয়, তবে তা স্বাগত জানানো হবে। তিনি বলেন, “জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে আমরা শুধু সমর্থনই নয়, প্রয়োজন হলে সহযোগিতাও করব। কিন্তু যদি জনগণের অধিকার হরণ করা হয়, তাহলে আমরা নীরব থাকব না।”

জামায়াত আমির আরও বলেন, প্রতিবাদে যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে সেটাই ভালো। কিন্তু তাতে কাজ না হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পথেও তারা যেতে পারেন। তিনি বলেন, “প্রতিবাদে কাজ হলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি কাজ না হয়, তাহলে প্রতিরোধ করব। আমাদের লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ—এই লড়াই হবে জনতার বিজয়ের লড়াই।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তাদের দল জনগণের বিজয়ের কথা বলেছিল। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, দেশে ভোটাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং বিষয়টি এখন জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “বিচার এখন জনতার আদালতে। সেই রায় জনগণের পক্ষেই আসবে, ইনশাআল্লাহ।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে। এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানই তাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় মুসলিম বিশ্ব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানবতার বিরুদ্ধে যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই তারা প্রতিবাদ জানাবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি মানবতা ও মনুষ্যত্বের বিজয় কামনা করেন।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাগপা সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।