Something went wrong

এনসিপিতে বড় ভাঙন, ১৪ কেন্দ্রীয় নেতার একযোগে পদত্যাগ

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
৩ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৯:৪২ এএম
এনসিপির শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে দলটি। ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে দলটি। ছবি: সংগৃহীত

নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলটিতে ভাঙন শুরু হয়। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ১৪ জন শীর্ষ নেতা একযোগে পদত্যাগ করায় দলটির ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

কে, কী, কখন, কোথায়, কেন ও কীভাবে—এই ছয়টি দিক বিবেচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানরত এনসিপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দলটির সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত দলটির মূল আদর্শ ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া হয়েছে।

দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মুখপাত্র, যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন বৃহস্পতিবার রাতে পদত্যাগ করেন। একই দিন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীনও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ পদত্যাগ করেন। তিনি ডা. তাসনিম জারার স্বামী। ডা. তাসনিম জারা নিজেও ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদ ছাড়েন।

পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন একটি আদর্শবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর প্রত্যাশার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, নতুন ধারার রাজনীতির যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল, সেই অবস্থান থেকে দলটি সরে এসেছে।

এ বিষয়ে মুশফিক উস সালেহীন বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই দলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। এনসিপি পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে। নতুন ধারার রাজনীতি করার সম্ভাবনা কার্যত নষ্ট হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, দলটির ভেতরের মতবিরোধ এখন প্রকাশ্য বিভক্তিতে রূপ নিচ্ছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। শহীদ পরিবারগুলোর বড় প্রত্যাশা ছিল এই দলের প্রতি। কিন্তু পরিচিত ও সাহসী মুখগুলো একে একে সরে যাওয়ায় তারা হতাশ হচ্ছেন। আরেক শহীদ পরিবারের সদস্য জানান, এনসিপির এই ভাঙন তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিতে এই ধারাবাহিক পদত্যাগ দলটির জন্য বড় ধাক্কা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, “নেতৃত্বের ভাঙন নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জামায়াতের সঙ্গে জোটকে কেবল নির্বাচনি সমঝোতা বলা হলেও, দলের নারী নেতৃত্বসহ অনেকেই তা বিশ্বাস করছেন না।”

এনসিপি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন টুটুলসহ অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। আরও অনেকে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ না করলেও দলীয় কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এনসিপির ভেতরে সংকট নিরসনের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুত আস্থা পুনরুদ্ধার ও আদর্শগত অবস্থান পরিষ্কার না করতে পারলে দলটি আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

Advertisement
Advertisement