শীতে সবজি ও ডিমে স্বস্তি, মাছের বাজারে দাম চড়া

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শীত মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সবজি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে চড়া দাম ক্রেতাদের ভোগাচ্ছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কমলেও নদীতে মাছ ধরা কম হওয়ায় মাছের দাম কমেনি।

শীতের শুরুতে বাজারে নতুন সবজি ওঠায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিমসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। বিক্রেতাদের মতে, উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সবজির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং শিম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ও মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ফার্মের ডিমের ডজন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। খামারিরা শীতে রোগবালাই এড়াতে দ্রুত মুরগি বিক্রি করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

তবে মাছের বাজারে সেই স্বস্তি নেই। কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ইলিশ এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় আড়ত পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ে। খিলক্ষেত বাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকলে খুচরায় কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।”

ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও তার সুফল খুচরা বাজারে পৌঁছায় না। খিলক্ষেত বাজারে আসা ক্রেতা সিহাব বলেন, “মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি পেলেও মাছের দাম এখনো বেশি। ইলিশ তো সাধারণ মানুষের জন্য বিলাসপণ্য হয়ে গেছে।”

সব মিলিয়ে শীতের বাজারে সবজি ও ডিমে আংশিক স্বস্তি থাকলেও মাছের দামে অস্থিরতা কাটেনি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীতে মাছের সরবরাহ বাড়লেই কেবল মাছের দামে স্বস্তি ফিরতে পারে।