বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নতুন ডিজিটাল সুখবর

আজকের প্রথা প্রতিবেদন
আজকের প্রথা প্রতিবেদন
২৪ আগস্ট, ২০২৫ এ ৬:২১ এএম
বাংলাদেশ সরকারের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তাদের সনদ যাচাই ও অ্যাপোস্টিল করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির জন্য আর দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

শনিবার (২৩ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, এতদিন বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ যাচাই একটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া ছিল। দূতাবাস ও বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার যেতে হতো, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক চাপও তৈরি করত। নতুন ডিজিটাল সনদ যাচাই ও অ্যাপোস্টিল সিস্টেম চালু হওয়ায় বছরে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এখন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাবলিক ডকুমেন্ট যাচাইয়ের জন্য ডিজিটাল অ্যাপোস্টিল (Apostille) সনদ প্রদান করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা অনলাইনে তাদের শিক্ষাগত সনদ যাচাই করাতে পারবেন। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে এবং এসব সনদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাবে।

এই উদ্যোগের ফলে বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর দূতাবাস বা বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে শারীরিকভাবে যেতে হবে না। ডিজিটাল প্রক্রিয়া খরচ কমাবে, ভোগান্তি দূর করবে এবং আস্থা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বৈশ্বিক সুযোগের পথকে আরও সহজ করে তুলবে।

অ্যাপোস্টিল একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়া, যা কোনো নথিপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে। বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। জন্মসনদ, বিবাহ সনদ কিংবা শিক্ষাগত সনদ বিদেশে ব্যবহারের জন্য অ্যাপোস্টিল করা থাকলে তা আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।

সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু বিদেশগামী শিক্ষার্থীদেরই নয়, বরং কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি যুগান্তকারী সুবিধা তৈরি করবে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।