Something went wrong

প্রবাসীরা বিদেশি বিনিয়োগ আনলে মিলবে ১.২৫% নগদ প্রণোদনা

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৪১ এএম
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ড সভায় বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ড সভায় বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ প্রণোদনা হিসেবে পাবেন।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশে নতুন বিনিয়োগ আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এটি প্রবাসীদের জন্য একটি স্বীকৃতিমূলক প্রণোদনা, যা প্রবাসী আয়ের বিদ্যমান ক্যাশ ইনসেনটিভ ব্যবস্থার মতোই কার্যকর হবে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, ব্যক্তিগত ভোগের জন্য অর্থ পাঠানোর পরিবর্তে যারা শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ আনবেন, এই নীতির মাধ্যমে তাদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ প্রণোদনা দেবে।

এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বসবাসরত দেশগুলোর সমাজ ও বিনিয়োগ মহলে গভীরভাবে যুক্ত। সেই সংযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায় সরকার।

তিনি আরও জানান, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হলেও এটি বাস্তবায়নের আগে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিদেশে বিডার অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। প্রথম ধাপে চীনে একটি অফিস খোলা হবে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশে অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব অফিসে স্থায়ী বেতনভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে কমিশন বা পরিবর্তনশীল পারিশ্রমিক ব্যবস্থায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। বিনিয়োগ আনতে পারার সাফল্যের ভিত্তিতেই তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে। চীনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ চীনা নাগরিকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া দেশের ছয়টি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনার রোডম্যাপও অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ‘সিঙ্গেল আমব্রেলা’ ব্যবস্থার আওতায় বিডা, বেজা, বেপজা, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও বিসিককে একীভূত করা হবে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, বর্তমানে এসব সংস্থার গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সরকার প্রধান দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে একবার বোর্ড সভা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হবে। আদর্শভাবে ছয় মাস পরপর বোর্ড সভা হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।

এ ক্ষেত্রে কোনো সংস্থাকে অতিরিক্ত সুবিধা না দিতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিগত অনুমোদন মিললেও আইনগত ও কাঠামোগত বাস্তবায়ন পরবর্তী সরকারের সময়েই সম্পন্ন হবে। আপাতত নতুন সংস্থার কাঠামো ও নকশা প্রণয়নই অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া বিডার আওতায় বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিশনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ বেসরকারিকরণের পথ সুগম করা হবে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement