নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন ইউনূস


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনালাপে। ছবি সংগৃহী
আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের একধরনের বন্যা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকেও এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমানের ছড়াছড়ি চলছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
জবাবে ভলকার তুর্ক বলেন, “এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।” তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
টেলিফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার তুর্ক গুম-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর অনুসন্ধান ও কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। এর জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। আমরা যাওয়ার আগেই এটি সম্পন্ন করব।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, গুম-সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তিনি ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকারদের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তার দপ্তর গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
টেলিফোনালাপে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।








