দেশে গ্যাস সংকট আরও বাড়ার বার্তা, বাড়ছে ভোগান্তির আশঙ্কা


এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। ছবি: সংগৃহীত
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমতে যাচ্ছে। এতে তিতাস গ্যাসের অধিভুক্ত এলাকায় বসতবাড়িসহ আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের স্বল্পচাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মাসের শুরু থেকেই এলপিজি বাজারে সংকট ও দামের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি টার্মিনালের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এতে প্রতিদিন ১২০ কোটি ঘনফুটেরও বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতির বড় অংশ আমদানিকৃত এলএনজির মাধ্যমে পূরণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে সেই সরবরাহও কমে যাবে।
বসতবাড়িতে বাড়ছে ভোগান্তি
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বসতবাড়িতে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার চাহিদার সময়ে অনেক জায়গায় চুলায় আগুন না জ্বলার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। শীত মৌসুমে রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এলপিজি বাজারেও চাপ
পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি বাজারেও চলতি মাসের শুরু থেকেই সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, শীত মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবহন জটিলতা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পেতে দেরি হচ্ছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।
শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব
গ্যাস সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখা বা শিফট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করছে।
কবে মিলবে স্বস্তি
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হবে। তবে চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক সরবরাহ ঘাটতি থাকায় বসতবাড়িসহ সব খাতে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সংস্থাটি সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংকটকালীন সময়ে গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।









