ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত চেয়ে রিট


ছবি: সংগৃহীত
চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। জনস্বার্থে করা এই রিটে নির্বাচন আয়োজনের আগে দেশের সার্বিক নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। সরকার অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, লুট হওয়া এসব অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ উসমান হাদির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি বলে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্যও রিটে তুলে ধরা হয়।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রিটে বলেন, সরকার কয়েকজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের ‘জীবনের অধিকার’-এর পরিপন্থী হবে।
রিট আবেদনে তাই লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নির্বাচনকালীন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।








