গণমাধ্যম এখন মুক্তভাবে সমালোচনা করতে পারছেন: প্রেস সচিব

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:০৮ এএম
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সাংবাদিকরা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় মুক্তভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ উন্নয়ন সংগঠন ‘সমষ্টি’, ইউনেস্কো গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ। এতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ গণমাধ্যম সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরাও অংশ নেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে শফিকুল আলম বলেন, “আপনারা কতটা প্রাণখুলে সাংবাদিকতা করছেন, সেটা একবার ভেবে দেখুন। এখন আপনারা মুক্তভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন।” তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শুধু সরকারের সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থেকে প্রকৃত দায়ীদের ব্যর্থতার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়, যা সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা উচিত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছয়জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রেস সচিব বলেন, ওই সময় কোনো সাংবাদিকের কাছেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী ছিল না। এমনকি অনেকের কাছে একটি সাধারণ হেলমেটও ছিল না। তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিক মালিক সংগঠন নোয়াবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “নোয়াব বড় বড় কথা বলে, কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য কোনো ইক্যুইপমেন্ট দেয় না। সাম্প্রতিক বড় সম্মেলনেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বা নিহত সাংবাদিকদের বিষয়ে কোনো বক্তব্য চোখে পড়েনি।”

তিনি আরও বলেন, যারা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং যারা সাংবাদিকদের ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে পাঠান, তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে দায়িত্ব তারা কতটা পালন করছেন—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে।

সাংবাদিকদের ঐক্য প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ঐক্য যদি হয়, তবে তা সবার জন্য হতে হবে—কেবল সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর জন্য নয়। একটি গ্রুপ নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়বে কিন্তু অন্য গ্রুপের ওপর নিপীড়নের সময় নীরব থাকবে—এটা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট গাইডবুক না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় কাভারের ক্ষেত্রে কীভাবে ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা জানান, ‘জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক’ থেকে সাংবাদিকদের আইন ও বিধি বিষয়ে সহায়তা দেওয়া হবে। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং নতুন এই সহায়তা ডেস্ককে সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।