কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব দেড় হাজারেরও বেশি পরিবার

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২৬ নভেম্বর, ২০২৫ এ ৬:৩২ এএম
কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিঃস্ব অবস্থার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিঃস্ব অবস্থার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেড় হাজারের বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন লাগার মুহূর্তে কোনোভাবে প্রাণে রক্ষা পেলেও সহস্রাধিক পরিবার সম্পদের দিক থেকে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন—জীবন রক্ষা পেলেও বসতঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা—সবকিছুই এখন ছাই।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, বস্তির প্রতিটি গলিতে ছড়িয়ে রয়েছে পোড়া টিন, কাঠ, লোহা আর অগণিত গৃহস্থালি সামগ্রীর ভস্মাবশেষ। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার পরিবার এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে রাস্তায়। বস্তির প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, জীবনে চারবার আগুন দেখেছেন তিনি; কিন্তু এবারের আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছে যে কেউ সামান্য প্রস্তুতিও নিতে পারেননি।

বউবাজার এলাকার দুতলা টিনের ঘরের বাসিন্দা রাজু মিয়া জানান, আগুন লাগার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। মানুষের চিৎকারে বাইরে বের হতে না পারলে হয়তো প্রাণটাই হারাতেন। আগুন নিভে যাওয়ার পর নিজের ভাঙাচোরা ঘর থেকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন কেবল একটি পুরোনো বটি, পুড়ে যাওয়া ফ্যানের অংশ আর কয়েকটি লোহার রড। টিভি, ফ্রিজ, ফার্নিচারসহ প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “প্রাণে বেঁচেছি ঠিকই, কিন্তু সুতা পরিমাণও কিছু রক্ষা করতে পারিনি।”

সিএনজি চালক শুক্কুর আলী আগুন লাগার সময় বাড়ির বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখেন ঘরের কাছে যাওয়া পর্যন্ত সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “যে শার্টটা পরে বের হয়েছিলাম—এটাই এখন আমার সব। স্ত্রী আর দুই সন্তান কোনো রকমে দৌড়ে বের হয়েছে। ঘরের যা ছিল সব ছাই হয়ে গেছে।” ক্ষতিগ্রস্ত আসমা আক্তার জানান, মানুষের বাসায় কাজ করে দীর্ঘদিনে কিছু জিনিসপত্র জোগাড় করেছিলেন। সব পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায়।

আগুনে প্রাণহানি না ঘটলেও কড়াইল বস্তির মানুষগুলো তাদের জীবিকা, সঞ্চয় ও নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে দিশেহারা। পুড়ে যাওয়া পুরো এলাকায় এখন শুধু আগুনে পোড়া গন্ধ, ধোঁয়া আর সর্বস্ব হারানো মানুষের ক্রন্দন—যা মনে করিয়ে দেয়, আগুন তাদের জীবন কেড়ে নিতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু জীবন গড়ার ভিত্তি কেড়ে নিয়েছে।