১০ হাজার অস্ত্র জমা হয়নি, উদ্ধারে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
৬ মে, ২০২৬ এ ১০:১০ এএম
ডিসি সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমদ।

ডিসি সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমদ।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমদ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (৬ মে) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বিগত সরকারের সময়ে ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনো জমা পড়েনি, যা দ্রুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বিপুল সংখ্যক অস্ত্র এখনও মাঠ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করতে প্রশাসনকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব অস্ত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলো উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক বিস্তার রোধ জরুরি। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থ পাচার ও সামাজিক অবক্ষয় ঠেকাতে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় বা নীতিমালা উপেক্ষা করে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ত্রুটিপূর্ণ লাইসেন্স বাতিল করে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে। তবে ২০০৯ সালের আগে বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রধারীরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের অস্ত্র ফেরত পাবেন।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।