সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হবে: তথ্যমন্ত্রী


শিল্পকলা একাডেমিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবিসংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে পাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এই অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে কার্যকর করবে এবং এর বাস্তবায়নে তথ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। পাশাপাশি আইনটির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের কথাও জানান তিনি।
সোমবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।
অনুষ্ঠানে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রধান হাসান শাহরিয়ার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনক। দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করেন। এর ফলে প্রতিদিন গড়ে ৫৪৮ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং বহু মানুষ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন।
গোলটেবিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই। তিনি জনপ্রত্যাশা পূরণে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে পাশ করার আহ্বান জানান। চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উচিত হবে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি অবিকৃত অবস্থায় আইন হিসেবে গ্রহণ করা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ যদি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন হিসেবে পাস না হয়, তাহলে দেশে তামাকজনিত ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
আলোচনায় বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক তামাক ব্যবহারের কারণে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের কারণে দেশে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।










