নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে চালু হলো কুইক রেসপন্স টিম

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৩২ এএম
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। ছবি: সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। ছবি: সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এখন থেকে হটলাইন ১০৯-এ ফোন করলেই ভুক্তভোগীর পাশে দ্রুত পৌঁছে যাবে কিউআরটির সদস্যরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি জানান, নির্যাতনের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিমের পাশে দাঁড়ানোই এই টিমের মূল লক্ষ্য।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত কিউআরটি কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে। দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ ছেলে-মেয়েরা যদি সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে তারাই দেশকে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক আন্দোলন হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৬ সালের গণভোটে নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সংস্কার, নতুন বাংলাদেশ এবং নারীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ—এই তিনটি বিষয়ই ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তরুণ প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। হটলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে দ্রুত সাড়া দেওয়ার এই উদ্যোগ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।