চার দফা দাবিতে আবারও অচল চট্টগ্রাম বন্দর

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:৩৬ এএম
লাগাতার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

লাগাতার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আবারও লাগাতার ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে দেন। এর ফলে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে এবং পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও থমকে গেছে। সকাল থেকেই বন্দরের ভেতরে কোনো ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।

আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের দাবি, কর্মবিরতির কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলছেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা শতভাগভাবে আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কাজে যোগ দেননি।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন দমাতে প্রশাসন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বন্দরের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। পাশাপাশি সংগ্রাম পরিষদের দুজন নেতাকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, সকাল থেকেই লাগাতার ধর্মঘট চলছে এবং বন্দরের কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে সংগঠনের দুজনকে তুলে নিয়ে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি প্রথমে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরবর্তীতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হয়। গত মঙ্গলবার থেকে পরিষদের পক্ষ থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করা হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরে এলে শ্রমিক-কর্মচারীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। ওইদিন বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন। তবে দাবি আদায়ে অগ্রগতি না হওয়ায় শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে লাগাতার ধর্মঘট শুরু হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দাবি আদায়ে দ্রুত সমাধান না এলে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।