এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলিতে বড় পরিবর্তন, জারি হলো নীতিমালা-২০২৬

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:২৬ এএম
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সুখবর। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কার্যকর হলো বদলি নীতিমালা-২০২৬, কমবে ভোগান্তি। ছবি: সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সুখবর। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কার্যকর হলো বদলি নীতিমালা-২০২৬, কমবে ভোগান্তি। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব ও ঘরের কাছে কর্মস্থলের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন বদলি নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করা হয়, যা জারির দিন থেকেই কার্যকর হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরে জারি করা এ নীতিমালায় বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার পুরো বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ফলে বদলির জন্য শিক্ষকদের আর কোনো প্রভাবশালীর দপ্তরে ধরনা দিতে হবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এসব পদের বিপরীতে শিক্ষকরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন গ্রহণ, বদলি আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবেদনের শর্ত ও অগ্রাধিকার

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম যোগদানের পর চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষকরা বদলির আবেদন করতে পারবেন। একবার বদলি হওয়ার পর পরবর্তী বদলির জন্য নতুন কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকরা প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদে আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যে কোনো জেলায় আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের যে কোনো জেলা অথবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে।

একটি পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন এলে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী।

অন্যান্য নিয়ম ও শর্ত

দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মডেল অনুসরণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন, তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি নয়। শিক্ষকরা আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।

বদলি আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশি মহাপরিচালকের ওপর এবং পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। বদলিকৃত শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলিকে অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং কোনো শিক্ষক টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না।

আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা ফৌজদারি মামলা চলমান, তারা বদলির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, এই নীতিমালা জারির ফলে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারি করা পূর্ববর্তী বদলি নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।