উপদেষ্টাদের লাল পাসপোর্ট সমর্পণ নিয়ে বাড়ছে আলোচনা


কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২৬: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব ছাড়ার আগেই কয়েকজন উপদেষ্টার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বা ‘লাল পাসপোর্ট’ জমা দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত দায়িত্ব শেষে এমন পাসপোর্ট সমর্পণের রীতি থাকলেও মেয়াদ চলাকালেই আগাম জমা দেওয়ার কারণ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তিনি জানান, কয়েকজন উপদেষ্টা ভবিষ্যতে বিদেশ ভ্রমণের কথা বিবেচনায় রেখে আগেভাগেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, যাতে সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা গ্রহণ সহজ হয়। তবে কে বা কতজন পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজে ও তাঁর স্ত্রী এখনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন বলে জানান। দায়িত্বকালীন সময়ে কোনো উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া বিষয়টি তিনি ‘খুব অস্বাভাবিক’ বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে তিনি নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের পরিকল্পনা না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ ছাড়া উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন বলে জানা গেছে। এসব তথ্য সামনে আসার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেন উপদেষ্টাদের কেউ কেউ কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়ছেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত জনমনে সন্দেহের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, দায়িত্ব চলমান থাকা অবস্থায় কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণের ঘটনা বিরল হলেও আইনগতভাবে এতে কোনো বাধা নেই। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, সময় নির্বাচনোত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করতে পারে। তবে আইন অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ায় কোনো বিধিনিষেধ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বাংলাদেশে পাসপোর্ট ইস্যু সংক্রান্ত প্রধান আইন হলো বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩ এবং পাসপোর্ট বিধিমালা, ১৯৭৪। এর আওতায় সরকার সাধারণত তিন ধরনের পাসপোর্ট প্রদান করে—সাধারণ নাগরিকদের জন্য সবুজ, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নীল এবং কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জন্য লাল রঙের কূটনৈতিক পাসপোর্ট। দায়িত্ব বা মেয়াদ শেষ হলে এই পাসপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও দায়িত্বকালীন সময়ে আগাম জমা দেওয়ার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না।
বর্তমানে কতজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন এবং এর প্রশাসনিক প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও আলোচনায় থাকবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।










