৬৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি আসছে


এনটিআরসিএ কার্যালয়—সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংস্থাটি সারা দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬৮ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রথমে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। টেলিটকের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৭২ হাজারের বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
শূন্য পদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে আলাদা করে চিঠি পাঠানো হয়। যাচাই শেষে দেখা যায়, প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে ৬৮ হাজার পদ প্রকৃত অর্থেই শূন্য, যা নিয়োগের জন্য উপযুক্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এনটিআরসিএর প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, “সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে।”
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুন এক লাখ ৮২২ শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় পরবর্তী সময়ে প্রায় ৪১ হাজার প্রভাষক ও শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এতে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট রয়ে গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আসন্ন সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে একদিকে যেমন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা নতুন সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজনীয় শিক্ষক পেয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে।
সবশেষে এনটিআরসিএ সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দ্রুত পাওয়া গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হবে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।




