হরমুজের পর ওমান উপসাগরেও ইরানের নিয়ন্ত্রণ দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৩০ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:১১ এএম
হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে ইরানের সামরিক উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে ইরানের সামরিক উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত

ইরান হরমুজ প্রণালির পর এবার ওমান উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করেছে। দেশটির নৌবাহিনীর এক কমান্ডার জানিয়েছেন, অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য প্রকাশ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ইরানি ওই কমান্ডার বলেন, তাদের সামরিক বাহিনী মার্কিন সেনাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানান, মার্কিন বাহিনী নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রবেশ করলেই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তার ভাষায়, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত জবাব দিতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক মহড়া ও ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতার কারণে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনাকে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

ইরানি নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির পূর্বাংশ এবং ওমান উপসাগর বর্তমানে পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার মতে, এই নিয়ন্ত্রণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যেকোনো বহিরাগত হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো এই পথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভৌগোলিকভাবে প্রণালিটির একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থান করায় এটি সামরিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তুলনামূলক সহজ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে বা চলাচল ব্যাহত করে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।