হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজে বাধা দেবে না ইরান


মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প আমদানির উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজ প্রবেশের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে নিরাপদে ওই কৌশলগত সমুদ্রপথ অতিক্রম করতে পারবে বাংলাদেশের জাহাজ।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার তেল ও এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্বাস চায়। পরে ইরান সম্মতি জানায় যে, বাংলাদেশি জাহাজগুলো আগাম তথ্য দিলে তারা প্রণালিটি ব্যবহার করতে পারবে।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি জ্বালানি চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার এখন বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
সাধারণ সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা থাকে। বর্তমানে সরকার প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করছে। এই সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আসন্ন পাঁচটি চালানে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার টনের বেশি জ্বালানি প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ করতে পারবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ভারত ও চীনের সঙ্গেও সহযোগিতা চেয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বলেছেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী তাদের দেশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও বিকল্প সরবরাহ, কৌশলগত মজুত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। সরকারের মতে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে আরও জরুরি আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র : The Business Standard










