সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা সরানোর আহ্বান ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৩১ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:১৪ এএম
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক বিমান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক বিমান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবকে দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সময়সীমা নিয়ে নতুন ধারণা দিয়েছেন। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান সৌদি আরবকে ‘সম্মান’ করে এবং দেশটিকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যেসব শক্তি আরব বা ইরানিদের সম্মান করে না, তাদের বিরুদ্ধেই ইরানের সামরিক পদক্ষেপ পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় তিনি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন বিমানের ছবিও শেয়ার করেন, যা পরিস্থিতির তীব্রতার বার্তা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ইরানের এ মন্তব্যকে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমানো যায়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই এই সময়সীমার কথা বলে আসছেন এবং এখনো তার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যারোলিন লেভিট আরও জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কূটনীতিই এখনো ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। একদিকে ইরানের কঠোর বার্তা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এখনই এ উত্তেজনা কমানোর প্রধান পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।