পাকিস্তানে ৮ সাংবাদিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৩ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১০:০৪ এএম
পাকিস্তানের আদালত প্রাঙ্গণ—সাংবাদিকদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের আদালত প্রাঙ্গণ—সাংবাদিকদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে আটজন সাংবাদিক ও কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিশেষ আদালত। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষে অনলাইনে কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে দেশ-বিদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কে, কী, কখন, কোথায়, কেন ও কীভাবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খান গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন তার সমর্থকেরা কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালান। এসব ঘটনার পর দায়ের করা একাধিক মামলার ভিত্তিতে সম্প্রতি একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের মতে, অভিযুক্তদের অনলাইন কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানি ও সমাজে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়েছে।

রায়ের পর আদালত বলেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বর্তমানে পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিচার চলাকালে আদালতে হাজির হননি।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে ইউটিউবার হওয়া আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেইন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাই, পাশাপাশি মন্তব্যকারী হায়দার রাজা মেহদি ও বিশ্লেষক মঈদ পীরজাদা। নিউইয়র্কে বসবাসরত সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, তাকে কখনো সমন পাঠানো হয়নি কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি।

তিনি বলেন, “এই রায় কোনো ন্যায়বিচার নয়। এটি একটি রাজনৈতিক নাটক, যেখানে যথাযথ প্রক্রিয়া, এখতিয়ার ও বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে।” তার দাবি, আদালত তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই রায় দিয়েছে।

এর আগে সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) ২০২৩ সালেই এসব তদন্তকে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। সিপিজের এশিয়া কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় পাকিস্তানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্নমত প্রকাশের পরিসর আরও সংকুচিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আপিল বা আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে এই রায়ের পরবর্তী গতিপথ কী হবে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।