নবম থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ শহরের তালিকায় এখন ঢাকা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৬ নভেম্বর, ২০২৫ এ ৫:৪১ এএম
জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ঢাকার জনসংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ঢাকার জনসংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে বিশ্বের বৃহৎ শহরগুলোর সর্বশেষ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—ঢাকা নবম স্থান থেকে উঠে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ শহরে পরিণত হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে জাপানের রাজধানী টোকিও বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে নতুন তালিকায় টোকিওকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়, আর টোকিও নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। ২০০০ সালের দিকে জাতিসংঘ টোকিওকে বিশ্বের বৃহত্তম শহর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাকার্তার বর্তমান জনসংখ্যা ৪ কোটি ১৯ লাখ। ঢাকায় বসবাস করেন ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ এবং টোকিওতে রয়েছেন ৩ কোটি ৩৪ লাখ বাসিন্দা। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরটির বৈশ্বিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড আর্বানাইজেশন প্রসপেক্ট ২০২৫ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মেগাসিটির সংখ্যা এখন ৩৩টি, যা ১৯৭৫ সালে ছিল মাত্র আটটি। মেগাসিটি বলতে ১ কোটির বেশি জনসংখ্যাসম্পন্ন শহরকে বোঝানো হয়। এ ৩৩টির মধ্যে ১৯টি শহরই এশিয়ায় অবস্থিত, যা বিশ্বায়নের কেন্দ্র হিসেবে এশিয়ার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

শীর্ষ ১০ মেগাসিটির মধ্যে নয়টিই এশিয়ার শহর—ভারতের নয়াদিল্লি, চীনের সাংহাই ও গুয়াংজু, ফিলিপাইনের মানিলা, ভারতের কলকাতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরগুলোর অবস্থান উল্লেখযোগ্য। এ তালিকার বাইরে একমাত্র অ-এশীয় শহর হলো মিসরের রাজধানী কায়রো, যার জনসংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ। অপরদিকে আমেরিকা অঞ্চলে সবচেয়ে বড় শহর ব্রাজিলের সাও পাওলো এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার সবচেয়ে বড় শহর নাইজেরিয়ার লাগোস।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ার অন্যতম কারণ হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের ব্যাপক হারে রাজধানীমুখী হওয়া। কর্মসংস্থান, জীবিকার সন্ধান ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঢাকায় আগমন শহরটির জনঘনত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।