ট্রাম্পের গাজা শান্তি পর্ষদে যোগ দিচ্ছে ৮ মুসলিম দেশ


নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (২৩ সেপ্টেম্বর)। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা গাজা শান্তি পর্ষদে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৮টি মুসলিম দেশ। বুধবার এক যৌথ ঘোষণায় পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ এসব দেশ তাদের অংশগ্রহণের কথা জানায়।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই আটটি দেশ শান্তি পর্ষদে একজন করে প্রতিনিধি পাঠাবে।
একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন, কিছু দেশের ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া এই বোর্ডে যোগ দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়াগত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মিশর, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যেই শান্তি পর্ষদে যোগদানের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। অন্য পাঁচটি দেশ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিল। ট্রাম্প বিশেষভাবে সৌদি আরবকে এই পর্ষদে যুক্ত করতে আগ্রহী ছিলেন এবং প্রকাশ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও এতদিন রিয়াদ এ বিষয়ে নীরব ছিল।
গাজার শান্তি পর্ষদকে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে এই বোর্ডকে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত সমাধানের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
প্রস্তাবিত এই বোর্ডের আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে হলে প্রতিটি দেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










