এপস্টেইন নথি ফাঁস

গোপন যৌনসংক্রান্ত অভিযোগে বিল গেটসের নাম

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৪৯ এএম
এপস্টেইনের প্রকাশিত নথিতে বিল গেটস ও তার ব্যক্তিগত জীবন সংক্রান্ত বিতর্কের তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

এপস্টেইনের প্রকাশিত নথিতে বিল গেটস ও তার ব্যক্তিগত জীবন সংক্রান্ত বিতর্কের তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ পাতা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও, যা প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই বিপুল পরিমাণ নথি, ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বরে কিছু নথি প্রকাশ করা হলেও ১,০০০-এর বেশি ভিকটিমের পরিচয় সুরক্ষার কারণে বাকিগুলো তখন প্রকাশ করা হয়নি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে কিছু খসড়া ইমেইল আছে যেগুলো এপস্টেইনের লেখা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ইমেইলে উল্লেখ রয়েছে, গেটস কথিত ‘রুশ’ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হন এবং তা তার তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের কাছে গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

এপস্টেইনের নথিতে বলা হয়েছে, গেটসের দীর্ঘদিনের বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিচকে গেটসকে ‘রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরিণতি’ মোকাবিলায় ওষুধ সংগ্রহ এবং গোপন সাক্ষাতে সহায়তা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি ব্রিজ টুর্নামেন্টের জন্য ‘অ্যাডারাল’ ওষুধ সরবরাহের কথাও উল্লেখ আছে।

অন্য একটি খসড়া ইমেইলে অভিযোগ করা হয়, গেটস তার ভাবমূর্তি রক্ষায় মেলিন্ডাকে অজান্তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর জন্য নিকোলিচের সহায়তা চেয়েছিলেন। নথিতে সতর্ক করা হয়েছিল যে, মেলিন্ডা যদি প্রকাশ্যে বিচ্ছেদ করেন, তবে তাদের দাতব্য কার্যক্রমে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে।

২০১৭ সালে রাশিয়ার ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভো-র সঙ্গে গেটসের কথিত সম্পর্ক ফাঁস করার হুমকির বিষয়টিও নথিতে পুনরায় উঠে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এপস্টেইনের চ্যারিটেবল ফান্ডে বিনিয়োগে গেটস অস্বীকৃতি জানানোর পর এ হুমকি দেয়া হয়েছিল।

বিল গেটসের একজন মুখপাত্র এই সমস্ত দাবিকে কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এই নথিগুলো কেবল এপস্টেইনের হতাশা এবং কাউকে ফাঁদে ফেলা বা মানহানি করার চেষ্টা প্রমাণ করে। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অবাস্তব।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গেটস ও মেলিন্ডা বিবাহিত ছিলেন। মেলিন্ডা পূর্বে জানিয়েছিলেন, গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগই তাদের বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ।