কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, নিহত ৪০০

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১৭ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:১৮ এএম
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ নিহতের দাবি তালেবানের, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। ছবি: সংগৃহীত

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ নিহতের দাবি তালেবানের, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে তালেবান সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সোমবার (১৬ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু রোগী ছিলেন, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। তিনি বলেন, “হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “এ ধরনের হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থি।”

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাবুলের কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী কাবুল ও নাঙ্গারহার প্রদেশে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘নির্ভুল’ হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে এবং একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার অভিযোগ সেই উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।