উচ্ছৃঙ্খল ইসরায়েল রুখতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রয়োজন


ছবি:সংগৃহীত
সম্প্রতি দোহায় ইসরায়েলি হামলার পর মুহূর্তেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে; কাতারের ওপর হামলা এবং গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আরব ও মুসলিম নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। দোহায় অনুষ্ঠিত জরুরি আরব-ইসলামিক সম্মেলন এবং রাজনীতিক পর্যায়ের সমন্বয় কাতারের পাশে একজোট সহমত প্রকাশ করেছে — এ সমাবেশে অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা ও নতুন কূটনৈতিক কৌশল সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।
বহু পর্যবেক্ষক মনে করেন, ইসরায়েলের চলমান সামরিক নীতিমালা কেবল ফিলিস্তিনি জনগণকেই নয়, গোটা উপকূলীয় ও উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকেও বিপদে ফেলছে; একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিচারিত মনোভাব ইসরায়েলকে অপ্রতিষ্ঠিত আচরণ থেকে রক্ষা করছে—এ নিয়ে কড়া সমালোচনাও উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় অনেক দেশই আব্রাহাম চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও স্বাভাবিকীকরণ স্থগিত রাখার কথা বলেছে।
এ পরিস্থিতিতে পশ্চিমা শক্তি এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে মনে না হওয়ায় পাকিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান করা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ৫৭ দেশের ওআইসি তথা আরব-ইসলামিক সংস্থাগুলোকে কূটনৈতিক — এবং যেখানে প্রয়োজন, লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক ও সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করতে হবে যাতে দখলদারিত্ব ও যুদ্ধাপরাধ থেকে আর্থিক লাভ বন্ধ হয়। দোহায় মিলিত শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই ঐক্যকে বাস্তবিক বলবৎ করার কথা ত্বরান্বিত করেছেন।
কিছু দেশ ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের প্রতি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিমাপ করে প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে; উদাহরণস্বরূপ, তুরস্ক ইতোমধ্যে আকাশপথ ও সমুদ্রবন্দর বন্ধের মতো কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অঞ্চলীয় several দেশতেও কঠোর কূটনৈতিক সঙ্কেত গড়ে উঠছে। এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, এভাবে আধােক পথ চললে কাজ হবে না—এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত, কৌশলগত এবং বহুমুখী মুসলিম জবাব।
শেষত: মুসলিম বিশ্বকে এখন কেবল কূটনৈতিক বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না; রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও সুবিধা প্রত্যাহারের মতো সর্বাত্মক কৌশলগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি। সময় এসেছে পৃথিবীকে স্পষ্ট বার্তা দেয়ার—উচ্ছৃঙ্খল আচরণকে শৃঙ্খলায় আনাই এখন অগ্রাধিকারের কাজ।









