ইরানের জ্বালানি ডিপোতে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল


তেহরানের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া। ছবি সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় জ্বালানি ডিপোগুলোতে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৭ মার্চ) চালানো ওই হামলার ফলে তেহরানের কয়েকটি তেল সংরক্ষণাগারে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, ইরানের মূল জ্বালানি শিল্প বা তেল-গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
রোববার (৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বলেন, হামলাগুলো মূলত স্থানীয় জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এসব ডিপো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানান তিনি।
ক্রিস রাইট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বড় ধরনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে না। তার ভাষায়, “আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে কোনো জ্বালানি অবকাঠামো নেই। ইরানের তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনাও ওয়াশিংটনের নেই।”
তেহরানে হামলার পর স্থানীয় গণমাধ্যমে বড় আগুন ও ধোঁয়ার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বলে জানা গেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইরানের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তবে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা










