আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত বেড়ে ৮০ ছাড়াল


আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান অভিযানের পর নিরাপত্তা টহল জোরদার। ছবিঃ সংগৃহীত
প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর রাতভর বিমান হামলায় ৮০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। রোববার পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানায়। সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার জবাব হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে পাকিস্তান বলছে, তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত আফগানিস্তান-ভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করেই এই বিমান হামলা চালানো হয়। সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোরে আফগানিস্তানের নানগরহার, পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশে একাধিক স্থাপনায় হামলা হয়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, এসব স্থানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সংশ্লিষ্ট সদস্যরা অবস্থান করছিল। অভিযানে অন্তত সাতটি আস্তানা ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে নানগরহারের দুটি ‘নিউ সেন্টার’, খোস্তের একটি কেন্দ্র এবং পাকতিকার দুটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেছে ইসলামাবাদের সূত্র। তারা বলছে, এসব স্থাপনা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তানের দেওয়া হতাহতের পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে। পাকিস্তান বলছে, অভিযানের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং গোয়েন্দা তথ্য যাচাই শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
বর্তমানে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে সহিংসতা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এএফপি









