রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় ইউক্রেনের এক লাখ বাড়ি বিদ্যুৎহীন

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৮ আগস্ট, ২০২৫ এ ৩:১৭ এএম
রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ইউক্রেনের এক লাখেরও বেশি বাড়ি-ঘর।। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ইউক্রেনের এক লাখেরও বেশি বাড়ি-ঘর।। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার নতুন করে চালানো হামলায় ইউক্রেনের পলতাভা, সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে এক লাখেরও বেশি বাড়ি-ঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা যায়, রাশিয়ার এই আক্রমণ মূলত শীতের আগে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পরিকল্পিত নীতি। গত বছরও ইউক্রেন অভিযোগ করেছিল যে, রাশিয়া তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেক ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনও পাল্টা হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ১০০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনা, তবে খারকিভ অঞ্চলের একটি স্কুল এবং খেরসনের একটি বহুতল ভবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “রাশিয়াকে থামাতে নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন এবং আমরা সেই চাপ সৃষ্টির জন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি।”

এদিকে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রুশ সেনারা প্রথমবারের মতো দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল, তবে তাদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও রাশিয়া ওই অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করেনি, তারা ইতোমধ্যেই দোনেৎস্কসহ চারটি অঞ্চলকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের বাহিনী দোনেৎস্কের একটি গ্রাম দখল করেছে।

যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক মহলেও নড়াচড়া শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আলাস্কায় ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এবং পরে ওয়াশিংটনে জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন। ইউক্রেনও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করছেন, যাতে শান্তিচুক্তির পর ভবিষ্যতে রাশিয়া নতুন করে হামলা চালাতে না পারে।

এদিকে কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্রিটিশ সেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল স্যার টনি রাডাকিন। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষে তারা ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত। একই দিন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ বলেন, ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির সেনাবাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর করে তোলা।