Something went wrong

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:৫৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন। ছবি সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার আশায় এই দরপতন দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা কমায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিলে তেলের দামে এ প্রভাব পড়ে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৫২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৭ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৯১ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে লেনদেন হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ দশমিক ২৩ ডলারে।

এর আগের দিন বুধবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। সে সময় একটি সংবাদ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা ভেঙে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এতে বাজারে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পরে উভয় দেশের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, শুক্রবার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তাই সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামার প্রধান কারণ। আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “আলোচনা ভেঙে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় তেলের দাম হঠাৎ বেড়েছিল। তবে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হচ্ছে—এমন খবরে সেই ভয় অনেকটাই কমে গেছে।”

ইরান জানিয়েছে, তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চায়। তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনায় আনতে আগ্রহী।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত বাজারে ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমাতে সহায়তা করলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ইরান ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক। দেশটির ওপর হামলা হলে তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের ক্ষেত্রে শুধু ইরানের তেল উৎপাদনই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকসহ ওপেকের একাধিক সদস্য দেশ এই প্রণালির মাধ্যমে তাদের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুত সংক্রান্ত তথ্য তেলের দামে কিছুটা সমর্থন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, ৩০ জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে, যদিও একই সময়ে গ্যাসোলিনের মজুত বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার অগ্রগতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই আগামী দিনে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement
Advertisement