যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের—সিএনএনকে খারাজির বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১০ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:৩৪ এএম
তেহরানে সিএনএনকে সাক্ষাৎকারে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কামাল খারাজি। ছবিঃ সংগৃহীত

তেহরানে সিএনএনকে সাক্ষাৎকারে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কামাল খারাজি। ছবিঃ সংগৃহীত

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। সোমবার (৯ মার্চ) তেহরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চাপ বাড়াতে ইরান সেখানে হামলার কৌশল চালিয়ে যেতে পারে, যাতে ওই অঞ্চলের দেশগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসতে চাপ দেয়।

সাক্ষাৎকারে কামাল খারাজি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ অতীতের আলোচনার সময়ও ইরান হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণেই ইরানের অবস্থান এখন আরও কঠোর হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “আমি কূটনীতির আর কোনো সুযোগ দেখি না। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যদের প্রতারিত করেছেন এবং নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। আমরা যখন সমঝোতা আলোচনায় যুক্ত ছিলাম, তখনই আমাদের ওপর আঘাত হানা হয়েছিল।”

খারাজির মতে, চলমান সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তার ভাষায়, এই অর্থনৈতিক চাপ একসময় এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে অন্যান্য দেশ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধ অন্যদের ওপরও ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ সমস্যার প্রভাব বাড়তেই থাকবে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যদের হস্তক্ষেপ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ১৯৫৬–৫৭ সালের সুয়েজ খাল সংকটের সময়কার রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র রোববার জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করে এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘ ও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কমে গেলেও আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও গভীরভাবে পড়তে পারে।