ফিলিপাইনে ৩৫৯ জন নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ১৫

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:২১ এএম
ফিলিপাইনে ফেরি ডুবির পর জীবিত যাত্রীদের উদ্ধারে তৎপর উদ্ধারকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে ফেরি ডুবির পর জীবিত যাত্রীদের উদ্ধারে তৎপর উদ্ধারকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বাসিলানে ৩৩২ জন যাত্রী ও ২৭ জন ক্রুসহ মোট ৩৫৯ জন আরোহী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে গেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ৪৩ জন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফিলিপাইন কোস্টগার্ড। এখন পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় ১৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বাসিলানের মেয়র আরসিনা লাজা কাথিং নানোহ ও ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের বাসিলান শাখার বরাতে জানা গেছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রশাসনসূত্র জানায়, স্থানীয় সময় ভোরে বাসিলানের জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে পার্শ্ববর্তী মিন্দানাও প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘ত্রিশা কেরস্টিন–৩’ নামের ফেরিটি। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরিটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। কোস্টগার্ড ও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র রোনালিন পেরেজ এএফপিকে বলেন, “এখন পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।”

উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে মিন্দানাও প্রাদেশিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা গতিশীল করতে আমরা মিন্দানাও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। পুরো অভিযানের সমন্বয় করছে মিন্দানাও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।”

প্রসঙ্গত, প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ ফিলিপাইনে একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।

ফেরি দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া ও সমুদ্র পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।