প্রযুক্তি কোম্পানির অফিসকে লক্ষ্যবস্তু তালিকায় রাখল ইরান


মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে প্রযুক্তি কোম্পানির আঞ্চলিক অফিসকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান। ছবি সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টের কার্যালয়কে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফট এবং এনভিডিয়ার ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত অফিসগুলোর নাম রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই তালিকা প্রকাশ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাত ধীরে ধীরে অবকাঠামোগত যুদ্ধের দিকে বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর পরিধিও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এই তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরাসরি কিংবা পরোক্ষ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা বাড়ার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত যদি সামরিক স্থাপনা ছাড়িয়ে জ্বালানি, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর দিকে বিস্তৃত হয়, তাহলে এর প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত হতে পারে। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার ও আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে।
তারা মনে করছেন, প্রযুক্তি অবকাঠামো বা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর এই তালিকা প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










