পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘ভারতসমর্থিত’ ৪১ সন্ত্রাসী নিহত


বেলুচিস্তানে গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানের পর নিরাপত্তা তল্লাশি চালাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি:সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ‘ভারতসমর্থিত’ হিসেবে চিহ্নিত ৪১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। গত ২৯ জানুয়ারি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়। এতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতের মদদপুষ্ট বলে অভিযোগ করা সংগঠন ‘ফিতনা আল-খারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বেলুচিস্তানের হরনাই জেলার উপকণ্ঠে ‘ফিতনা আল-খারিজ’-এর উপস্থিতির নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর সেখানে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকরভাবে আঘাত হানে। তীব্র গোলাগুলির পর সেখানে ৩০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর।
অন্যদিকে, পাঞ্জগুর জেলায় চালানো আরেকটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। আইএসপিআরের দাবি, ওই অভিযানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। এ সময় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতির লুটের অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা অতীতে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্য কোনো সন্ত্রাসীর উপস্থিতি রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে স্যানিটাইজেশন অভিযান চলমান রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পটভূমিতে আইএসপিআর উল্লেখ করে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান-সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালে পাকিস্তানজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্যান্য অংশে ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, গত বছর সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বড় কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নরম লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং এতে আফগান সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল।









