দায়িত্ব নিয়েই নতুন যুগের বার্তা দিলেন মেয়র জোহরান মামদানি


নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই শহরকে ‘পুনরায় গড়ে তোলার’ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বুধবার (স্থানীয় সময়) ম্যানহাটনের সিটি হলে শপথ নেওয়ার পর তিনি বলেন, নিউইয়র্কে একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে সাহসী সিদ্ধান্ত ও নীতিগত অবস্থান থেকেই নগর পরিচালনা করা হবে।
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র। তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম ব্যক্তি, যিনি এই শহরের মেয়রের দায়িত্ব পেলেন। একই সঙ্গে তিনি পবিত্র কুরআনে হাত রেখে শপথ নেওয়া প্রথম মেয়র হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।
শপথ গ্রহণের পর দেওয়া বক্তব্যে মামদানি বলেন, “আজ আমরা সাহসিকতার সঙ্গে শাসন শুরু করছি। হয়তো সব সময় সফল হবো না, তবে চেষ্টা করার সাহস কখনো হারাব না।” তিনি জানান, তার প্রশাসন আপসহীনভাবে কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক নীতিতে বিশ্বাসী এবং সেই নীতিতেই শাসন করব। আমাকে চরমপন্থি বলা হলেও নীতি থেকে সরে আসব না।” তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মামদানি তার প্রশাসনের প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর জারি করা সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। তবে তিনি জানান, প্রয়োজন বিবেচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশ নতুন করে পুনঃপ্রকাশ করা হবে।
নতুন মেয়র বলেন, “কাজ কেবল শুরু হয়েছে। আমরা সবার জন্য কাজ করব, শুধু ধনী বা অল্প কিছু মানুষের জন্য নয়।” তিনি জানান, তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হবে বাসভবন সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থার সংস্কার।
মামদানির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে চাইল্ডকেয়ার, বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য ভাড়া স্থগিত রাখা এবং সিটি পরিচালিত নতুন গ্রোসারি স্টোর চালু করা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই তার প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র হিসেবে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪ মিনিটে ম্যানহাটনের সিটি হলের নিচে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী রামা দুয়াজি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিসিয়া জেমস এবং ডেমোক্র্যাট নেতা বার্নি স্যান্ডার্স ও আলেক্সান্দ্রিয়া ওক্যাসিও-কোর্টেজ উপস্থিত ছিলেন।










