তীব্র কাজের চাপ মানুষকে সমকামিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে: মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী


সংসদে লিখিত উত্তরের মাধ্যমে এলজিবিটি ও কাজের চাপ নিয়ে বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি বিন হাসান। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ মানুষের আচরণ ও জীবনধারায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী। তাঁর মতে, তীব্র মানসিক চাপ এলজিবিটি সংশ্লিষ্ট আচরণের অন্যতম প্রভাবক হতে পারে। সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি বিন হাসান সংসদে জানান, কাজসংক্রান্ত চাপ মানুষের ব্যক্তিগত আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, কাজের চাপের পাশাপাশি সামাজিক প্রভাব, যৌন অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত নানা বিষয় এলজিবিটি সংশ্লিষ্ট আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০১৭ সালের একটি গবেষণার উল্লেখ করেন। ওই গবেষণায় বলা হয়, একাধিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত উপাদান একসঙ্গে মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলে। কাজের চাপ এসব উপাদানের একটি অংশ হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে এটি একক কারণ নয়।
এই প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য দাতুক সিতি জাইলাহ মোহদ ইউসুফ মালয়েশিয়ায় এলজিবিটি প্রবণতা নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানতে চান। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান, জাতিগত গঠন এবং সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উত্তরে মন্ত্রী জানান, এলজিবিটি জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা সম্পর্কে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
অন্য একটি সংসদীয় প্রশ্নের জবাবে ড. জুলকিফলি বিন হাসান জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে এলজিবিটি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মোট ১৩৫টি গ্রেপ্তার বা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এই প্রশ্নটি করেন হুলু তেরেঙ্গানু আসনের সংসদ সদস্য দাতুক রোসোল ওয়াহিদ।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় সমলিঙ্গ সম্পর্ক এখনো আইনত নিষিদ্ধ। দেশটিতে এ বিষয়ে আইন, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ও আলোচনা চলমান রয়েছে।




