ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে সাময়িক হামলা স্থগিত করল রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:০৯ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর ইউক্রেনে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে রাশিয়া। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিরতি বহাল থাকবে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মস্কোতে এক ব্রিফিংয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শীতকালীন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হতে পারে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সাময়িক বিরতির লক্ষ্য যুদ্ধাবসান নিয়ে আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। পেসকভ বলেন, “আমরা আশা করছি এই বিরতি আলোচনা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।” তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত দেননি।

ইউক্রেনের সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ কোনো মন্তব্য করেননি। একই সঙ্গে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনও পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে ২৯ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ রুশ বাহিনী হামলা চালাবে না। সেখানে তীব্র শীত পড়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভসহ অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলাম, এবং তিনি এতে সম্মত হয়েছেন। আমাদের আলোচনা ছিল খুবই ইতিবাচক।”

এদিকে ইউক্রেনের এক সংসদ সদস্য অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো আগের দিন দাবি করেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে বর্তমানে তীব্র শীত চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, যা আগামী রোববার থেকে আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউক্রেনের আবহাওয়া দপ্তর।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হয়। এরপর থেকে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়মিত হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি রাতে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক হাজারের বেশি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ ১২ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেন সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানিয়েছেন, এখনও ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি এই মানবিক সংকট কিছুটা লাঘব করবে কি না, সে দিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।